শহীদ বুদ্ধিজীবীর চতুর্থ তালিকায় ৪ জন প্রকৌশলী

২৪ মার্চ, ২০২৪ ১৪:১৮  

প্রকাশ করা হয়েছে আরও ১১৮ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা। এ নিয়ে চার দফায় ৫৬০ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা প্রকাশ করলো সরকার।

রোববার (২৪ মার্চ) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে চতুর্থ ধাপে ১১৮ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা প্রকাশ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রকাশ করেন।

নতুন তালিকায় অন্তর্ভূক্ত শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে একজন বিজ্ঞানী, ৩ জন প্রকৌশলী ও ১৩ জন চিকিৎসক রয়েছেন। বাকীদের মধ্যে ৫৪ জন শিক্ষক, ১৩ জন সমাজসেবী, ৯ জন রাজনীতিক, ৮ জন সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী,৪ জন আইনজীবী ও ৩ জন সাহিত্যিক রয়েছেন।

চতুর্থ দফার শহীদ বুদ্ধিজীবী তালিকায় যুক্ত হওয়া বিজ্ঞানীর নাম আমিনুল ইসলাম। পাবনা জেলার ঈশ্বরদীর অরনকোলা গ্রামের আজিম উদ্দিন মালিথা ও রাসু বেগম এর সন্তান। তিনি ঈশ্বরদী সুগারকেইন গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ছিলেন।

এছাড়াও ৩ প্রেকৌশলীর মধ্যে সিরাজগঞ্জের খাড়ুয়া অধিবাসী প্রকৌশলী আহসান উল হাবিব ছিলেন বুয়েটের ম্যাকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। তার বাবার নাম বেলায়েত হোসেন ও মা ছামেদুন নেছা। রাজশাহী বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডে কর্মরত প্রকৌশলী প্রশান্ত পাল ছিলেন নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার আতাইকুলা গ্রামের সুরেশ্বর পাল ও মায়া পালের সন্তান। যশোর সদরের যোগ সেন্ট্রাল রোডের প্রকৌশলী শামস উল হুদার নামও অন্তর্ভূক্ত হয়েছে এবারের শহীদ বুদ্ধিজীবী তালিকায়।

এদিকে আগামী ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের মধ্যে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। তিনি বলেন, চতুর্থ দফার তালিকাই শেষ। আরও যদি কোনো আবেদন থাকে, কিছু রিভিউতেও আছে... প্রাথমিকভাবে আমরা ৫৬০ জনের তালিকা ঘোষণা করছি। সর্বশেষ ও চূড়ান্ত তালিকা ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করবো। এটি খসড়া চূড়ান্ত তালিকা ধরে নিতে পারেন।

মন্ত্রী বলেন, তালিকা প্রণয়নে আমাদের কোনো শৈথিল্য ছিল না। তারপরও মানুষ হিসেবে ভুল-ভ্রান্তি হতে পারে। আমাদের জানার বাইরেও থাকতে পারে। আমরা সবজান্তা নই। সবার পক্ষে আবেদনও আসেনি। কারো কাছে প্রাথমিক তথ্য থাকলে আমাদের দিলে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে সেগুলো অবশ‌্যই অত‌্যন্ত সচেতনতার সঙ্গে বিবেচনা করে চূড়ান্ত করবো।

প্রসঙ্গত, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রণয়ণের জন্য ২০২০ সালের ১৯ নভেম্বর গবেষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়। পরে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর কমিটির প্রথম সভায় প্রাথমিকভাবে এক হাজার ২২২ জন বুদ্ধিজীবীর তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ১৯৭২ সালে এক হাজার ৭০ জন শহীদের তালিকা, পরবর্তী সময়ে ডাক বিভাগ ১৫২ জন শহীদের ডাকটিকিট প্রকাশ করে সেই তালিকাও অনুমোদন দেওয়া হয় ওই সভায়।